
২০১৯ সালের মাঝামাঝি সময়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দেন শ্রীলঙ্কার সাবেক পেসার নুয়ান কুলাসেকারা। উভয় দিকে বল সুইং করানোর দক্ষতার জন্য পরিচিত এই ডানহাতি বোলার ২০০৩ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত দেশটির জাতীয় দলের হয়ে খেলেছেন।
একটা সময়ে ভারতের সাবেক অধিনায়ক ধোনির সঙ্গে আইপিএলের চেন্নাই সুপার কিংসে খেলেছেন সাবেক লঙ্কান এই পেসার। ২০১১ সালের বিশ্বকাপের ফাইনালে তার বলে ছক্কা মেরে শিরোপা নিশ্চিত করেছিলেন ধোনিরা। অথচ আইপিএলে খেলার সময় ধোনি কখনই সেই ফাইনাল নিয়ে কথা বলেন নি বলে জানিয়েছেন নুয়ান কুলাসেকারা।
মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সেই স্মরণীয় ফাইনালে ভারত শ্রীলঙ্কাকে পরাজিত করেছিল। ধোনির ৭৯ বলে অপরাজিত ৯১ রানের ইনিংসটি স্বাগতিকদের দ্বিতীয়বারের মতো ওয়ানডে বিশ্বকাপ জয়ে বড় ভূমিকা রেখেছিল। ম্যাচের চূড়ান্ত মুহূর্তটি আসে যখন এই কিংবদন্তি উইকেটকিপার-ব্যাটার কুলাসেকারার বল লং-অন দিয়ে ছক্কা হাঁকান। যে শটটি পরবর্তীতে ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম আইকনিক দৃশ্যে পরিণত হয়।
আকর্ষণীয় বিষয় হলো বিশ্বকাপের ঠিক পরেই কুলাসেকারা সিএসকে-তে যোগ দেন এবং ধোনির নেতৃত্বে ২০১১ ও ২০১২ সালের আইপিএল মৌসুমে খেলেন। সেই সময়ের কথা স্মরণ করে সাবেক এই পেসার ধোনির বিনয় এবং অতীতকে পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষমতার প্রশংসা করেন।
তিনি বলেন, বিশ্বকাপের পরপরই আমি চেন্নাই সুপার কিংসে যোগ দিয়েছিলাম, কিন্তু ধোনি কখনোই সেই ফাইনাল নিয়ে কোনো কথা বলেননি। এতেই বোঝা যায় তিনি কেমন মানুষ। তিনি অত্যন্ত শান্ত এবং সবসময় বর্তমানের ওপর মনোযোগ দেন। তার কাছে অতীত মানেই শেষ হয়ে যাওয়া অধ্যায়। তার একমাত্র লক্ষ্য থাকত পরবর্তী ম্যাচটি জেতা। তার এই বিষয়টিই আমি খুব পছন্দ করতাম। রেভস্পোর্টস-এর সঙ্গে আলাপকালে কুলাসেকারা এ কথা বলেন।
ফাইনালে জয়সূচক রানটি তার বলেই হওয়ার বিষয়টি নিয়েও কুলাসেকারা কথা বলেন। তিনি স্বীকার করেন, সেই মুহূর্তটি বেদনাদায়ক হলেও তিনি এখন বিষয়টিকে ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখতে শিখেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, ২০১৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কার জয় ২০১১ সালের সেই পরাজয়ের হতাশা কিছুটা কমিয়ে আনতে সাহায্য করেছিল।
তিনি আরও বলেন, ক্রিকেটে বিশেষ করে পাওয়ারপ্লে এবং ডেথ ওভারের সময় যেকোনো বোলারের সঙ্গেই এমনটা ঘটতে পারে। আমি তাকে (ধোনিকে) আউট করার যথাসাধ্য চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু তা সত্ত্বেও তিনি আমার বলে ছক্কা হাঁকিয়েছিলেন। তবে ইতিবাচক দিকটি হলো, আমরা ঘুরে দাঁড়িয়েছিলাম এবং একইভাবে ২০১৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতেছিলাম। এই সুন্দর খেলাটার নিয়মই এমন।
যদিও ২০১১ সালের আইপিএল মৌসুমে কুলাসেকারা মাত্র একটি ম্যাচ খেলেছিলেন, তবুও তিনি সেই সিএসকে দলের সদস্য ছিলেন যারা সে বছর তাদের দ্বিতীয় আইপিএল শিরোপা জিতেছিল। ২০১১ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে গৌতম গম্ভীরের ক্যাচ ফেলার জন্য আক্ষেপ কুলাসেকারার।
সাবেক এই ফাস্ট বোলার সেই ফাইনাল ম্যাচ নিয়ে তার অন্যতম বড় আক্ষেপের কথাও তুলে ধরেন। গৌতম গম্ভীরের ক্যাচ ফেলে দেওয়া, যখন এই বাঁহাতি ব্যাটার ৩০ রানে ব্যাট করছিলেন। সেই সুযোগ হাতছাড়া করার মাশুল শ্রীলঙ্কাকে দিতে হয়েছিল; গম্ভীর ১২২ বলে ৯৭ রানের এক গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলে ভারতের জয়ের ভিত গড়ে দিয়েছিলেন।
কুলাসেকারা স্বীকার করেন, ক্যাচ ফেলার বিষয়টি একটি হতাশাজনক স্মৃতি হয়ে আছে, তবে তিনি এও বলেন খেলার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবেই এমন মুহূর্ত আসে। ক্রিকেটে ভাগ্য কীভাবে বদলে যেতে পারে, তার উদাহরণ হিসেবে তিনি ২০১৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ফাইনালে বেন স্টোকসের সেই হৃদয়বিদারক অভিজ্ঞতা এবং পরবর্তীতে ২০১৯ ওয়ানডে বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের জয়ের নায়ক হয়ে ওঠার কথা উল্লেখ করেন।
কুলাসেকারা বলেন, একটা পর্যায়ে আমরা নিশ্চিতভাবেই বিশ্বাস করেছিলাম যে আমরা জিততে পারব। আমি গম্ভীরের একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্যাচ ফেলে দিয়েছিলাম, আর স্বাভাবিকভাবেই তা নিয়ে আক্ষেপ রয়েছে। তবে বড় ম্যাচে এমন মুহূর্ত আসতেই পারে।
২০১৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ফাইনালে বেন স্টোকসও এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিলেন। অথচ পরে ২০১৯ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের জয়ে তিনি ম্যাচ-জেতানো ভূমিকা পালন করেছিলেন। এসব অভিজ্ঞতা খেলারই অংশ। আমার বিশ্বাস সেই ফাইনালে শিশিরও একটি বড় ভূমিকা পালন করেছিল বলে জানান কুলাসেকারা।